নিজস্ব প্রতিবেদক : র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্য অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে র্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্ত মাহাবুবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে অভিযুক্ত মাহাবুব দেশে এসেছে জানিয়ে ভিকটিমকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেখা করতে বলে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাড়াকৃত কক্ষে নিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এ সময় কৌশলে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ভিকটিম গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তকে বিয়ের কথা বললে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিকে গ্রেফতারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ, র্যাব-২, সিপিসি-৩ এবং র্যাব-১০ সদর কোম্পানির একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ৭ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল মেডিক্যাল এলাকার সামনে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ঢাকা জেলার যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নং-১১৫, তাং-০৬/০৪/২০২৬ খ্রি., নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(খ) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারার মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি মাহাবুব (৩১)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাহাবুবের পিতার নাম মামুন মিয়া। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লালপুর এলাকায়।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।