স্টাফ রিপোর্টার,সুনামগঞ্জ : সম্প্রতি একটি অনুমোদনহীন অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “শান্তিপুরের বালুতে লাল বিএনপি নেতা সবুজ” শীর্ষক সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলার কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী সবুজ আলম। তিনি দাবি করেছেন, প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
মুঠোফোনে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হাজী সবুজ আলম বলেন, যে স্থানকে কেন্দ্র করে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি তার বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তার দাবি, বাদাঘাট এলাকার একটি পুরোনো ছবি, যা স্থানীয় সাংবাদিক কামাল আহমদ রাফি ও নজরুল ইসলাম পূর্বে প্রকাশ করেছিলেন, সেটি এডিট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে কয়লা আমদানি ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার পরিবারও বহু বছর ধরে বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। অতীতে তার বাবা দুই মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তিনি নিজেও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় থেকে আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যবসার কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
হাজী সবুজ আলম আরও বলেন, তিনি ২০০১ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের সাবেক যুবদলের সভাপতি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কোনো সুবিধাবাদী বা হাইব্রিড নেতা নই। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে অতীতে যেমন ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। অন্যায় করিনি, অন্যায়কে প্রশ্রয়ও দেব না।
সংবাদে তাকে অবৈধ বালু উত্তোলন, বালু সিন্ডিকেট পরিচালনা, অবৈধ মজুদ এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ আয়ের সঙ্গে জড়িত বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, এসব দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি, তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের পর্যবেক্ষণ কিংবা গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপুর বা মাহারাম নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পরিবহন, মজুদ কিংবা বিক্রির সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে হেয় করার জন্য অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রকাশিত সংবাদ সেই অপপ্রচারেরই ধারাবাহিকতা বলে তিনি দাবি করেন।
হাজী সবুজ আলম আরও অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাংবাদিক মোটরসাইকেলের খরচের কথা বলে তার কাছে অর্থ দাবি করেন।হাজি সবুজ আলম বলেন, তাদের অনুরোধে তিনি ৭ হাজার টাকা প্রদান করেছিলেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টিরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
হাজী সবুজ আলম আরো বলেন, প্রকাশিত সংবাদের অধিকাংশ অভিযোগ ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ সূত্রের বরাতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা যাচাইযোগ্য নয়। কোনো ব্যক্তির বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ না করে কিংবা পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তাকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতার পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হাজী সবুজ আলম প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, তদন্তে যদি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তিনি দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন।
অন্যদিকে, তদন্তে অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে মিথ্যা তথ্য প্রচার, মানহানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে তার সব ধরনের আইনি অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদের শেষাংশে হাজী সবুজ আলম সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি তার প্রতিবাদলিপি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণ যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান