নিজস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি মো. হোসাইন আহমেদ (১৮)-কে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-৪ এর যৌথ আভিযানিক দল।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার পুরান বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে অভিযুক্ত হোসাইন আহমেদের সঙ্গে তার পরিচয় ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৩ জুন ২০২৬ সন্ধ্যায় হোসাইন আহমেদ ভিকটিমকে ফোন করে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের রাউলি পাইকপাড়া এলাকায় ডেকে নেয়। পরে সিএনজিযোগে তাকে ছাতক বাস কাউন্টারে নিয়ে গিয়ে বাসে করে ঢাকার মিরপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৪ জুন রাতে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে অভিযুক্ত।
পরদিন সকালে অভিযুক্ত ভিকটিমকে টাঙ্গাইলে তার বোনের বাসায় যেতে বলে এবং অর্থের ব্যবস্থা করে তাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দেয়। পরে ভিকটিমের বোন বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ভিকটিমের বাবা বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র্যাব-৪, সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্প, ঢাকার একটি যৌথ দল গত ১৩ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার সাভার উপজেলার হেমায়েতপুরের আর্জেন্টপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে দোয়ারাবাজার থানার মামলা নং-১৫, তারিখ ১০ জুন ২০২৬-এর এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি মো. হোসাইন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হোসাইন আহমেদের বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার আগন রায়েরগাঁও গ্রামে। তার পিতার নাম মো. আরশ আলী।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অপরাধবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।