আবু জাহান তালুকদার, সুনামগঞ্জঃ পরের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই নিজের আসল সুখ খুঁজে পান একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি নিয়মিত ব্যয় করছেন এলাকার অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে। নিঃস্বার্থ এই সমাজসেবার কারণে এলাকাবাসীর কাছে তিনি এখন এক নামে পরিচিত—‘মানবতার ফেরিওয়ালা’। বলছিলাম সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ডলুরা গ্রামের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. আবুল কালামের এর কথা। বর্তমানে তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রবাসী সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম বছরের পর বছর ধরে প্রবাসে থেকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন। কিন্তু নাড়ির টান আর এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাকে সব সময় তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই প্রবাসে থেকেও তিনি ভুলে যাননি নিজ গ্রামের শিকড়কে। প্রতি মাসেই অর্জিত রোজগারের একটা অংশ পাঠান গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোর সহায়তায়।
অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার খরচ চালানো, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে সহায়তা এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে আবুল কালাম সব সময় থাকেন সামনের সারিতে। শীত মৌসুমে শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ এবং যেকোনো দুর্যোগে সাধ্যমতো ত্রাণ সহায়তায় তিনি থাকেন সদা প্রস্তুত।
আবুল কালামের এই মানবিক উদ্যোগে বদলে গেছে এলাকার অনেক মানুষের জীবন। স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “আমাদের যেকোনো বিপদে-আপদে সবার আগে এগিয়ে আসেন আবুল কালাম ভাই। প্রবাসে থেকেও তিনি যেভাবে আমাদের খোঁজখবর রাখেন, তা সত্যি বিরল। তিনি আমাদের এলাকার গর্ব।”
নিজের এই নিঃস্বার্থ কাজের বিষয়ে প্রবাসী আবুল কালাম বলেন, “মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আল্লাহ আমাকে প্রবাসে যতটুকু উপার্জনের তৌফিক দিয়েছেন, তা দিয়ে যদি কয়েকজন মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারি—তবেই আমার জীবনের সার্থকতা। আমি আজীবন মানুষের সেবা করে যেতে চাই।
কোনো ধরনের লোকদেখানো প্রচার ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নিরবে-নিভৃতে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটি আজ স্থানীয় তরুণ সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। এলাকাবাসীর দাবি, আবুল কালামের মতো অন্য প্রবাসীরাও যদি এভাবে নিজ নিজ এলাকার মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান, তবে সমাজে কোনো অভাবগ্রস্ত মানুষ কষ্টে থাকবে না।