জানে আলম, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। প্রচারিত এসব তথ্যকে তিনি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে নাজির কাম ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন। দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে সরকারি ফি, অর্থ গ্রহণ ও হিসাব-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। ফলে অফিসে তাঁর কাছে টাকা থাকা বা অর্থ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করছি। আমার দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবেই অফিসে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কাজ করতে হয়। কিন্তু কে বা কারা অফিসের ভেতরের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা আমি জানি না। ভিডিওটি কোন প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
তাঁর অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে অনৈতিক সুবিধা বা প্রস্তাব নিয়ে আসেন। এসব প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় একটি পক্ষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, আমি কোনো ব্যক্তির অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিছু দুষ্কৃতকারী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে বলে আমার ধারণা। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করি। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা যেতে পারে।
এদিকে, দৈনিক চলমান বাংলাদেশ-এর অনুসন্ধানী টিমের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহের সময় সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, ধারণের সময় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের ভূমি-সংক্রান্ত সেবা, দখল ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টেও ফরিদগঞ্জে দীর্ঘদিনের দখল, আদালতে বিচারাধীন মামলা এবং একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে বিরোধের খবর প্রকাশিত হয়। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে নাজির কাম ক্যাশিয়ার মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও বা অভিযোগের সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও বা অভিযোগ প্রচারের আগে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, সত্যতা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
নিজের বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিও ও বক্তব্যের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন মো. সাইফুল ইসলাম। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।