শহর পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, ইনচার্জ এসআই অভিজিৎ ভৌমিকের নেতৃত্বে গত তিন মাসে বালুমহাল আইনে ৭টি, চোরাচালান আইনে ৩টি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত স্টিল বডির নৌকা, কাঠের নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, লেহেঙ্গাসহ বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, মাদক কারবারি, চোরাচালান চক্র ও অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। শহর ও আশপাশের এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি সন্দেহভাজন অপরাধীদের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে পুলিশের টহল ও অভিযান দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অপরাধের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক, চোরাচালান, অনলাইন জুয়া, অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো অপরাধমূলক তথ্য পুলিশকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। সমাজ থেকে অপরাধ কমাতে জনগণ ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।
জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সুনামগঞ্জ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চোরাচালান ও মাদক নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান এবং তথ্যভিত্তিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ দমনে কাজ করছে পুলিশ।
আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, অভিযানের পাশাপাশি মামলার কার্যকর তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং অপরাধ চক্রের মূল হোতাদের বিচারের আওতায় আনা গেলে অপরাধ দমনে আরও স্থায়ী সুফল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনগণের তথ্যগত সহযোগিতা নিশ্চিত করাও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।