নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহরের পশ্চিম বাজারে অবস্থিত সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দেশি মদের দোকান স্থানীয়ভাবে (‘বাংলা মদের পাট্রা’) নামে পরিচিত সম্পর্কে লাইসেন্সের শর্তাবলি, পরিচালনা বিধিমালা এবং দোকানটি শহরের বাইরে স্থানান্তরের দাবিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক/উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
রবিবার ( ২৮ জুন) সকালে সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করা হয়। আবেদন করেন সুনামগঞ্জ পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, সমাজকর্মী আমির হোসেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আরপিন নগর জামে মসজিদের প্রায় ২০০ গজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দোকানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, জনবহুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী এলাকায় এ ধরনের দোকান পরিচালিত হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা সামাজিক পরিবেশ এবং যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই দোকানটির পরিচালনার আইনি ভিত্তি ও লাইসেন্সের শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দোকানটি কবে এবং কোন ভিত্তিতে সরকারি লাইসেন্স পেয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ কত পরিমাণ দেশি মদ বিক্রির অনুমতি রয়েছে, কোন শ্রেণির ব্যক্তি আইন অনুযায়ী মদ ক্রয়ের যোগ্য, দোকান থেকে কেনা মদ লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তি বাইরে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন কি না, দোকান খোলা ও বিক্রির নির্ধারিত সময়সূচি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার নিকট মদের দোকান স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা কী।
মধ্যবাজারে মদের দোকান বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে সমাজসেবক আমির হোসেন বলেন,দেশের আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা আবাসিক এলাকায় মদের পাট্টা চলতে পারে না। তাহলে আমার সাধারণ জনগণের পক্ষে প্রশ্ন ঠিক কার শক্তিতে, কোন অপশক্তির ইশারায় ও মদদে এই পবিত্র মসজিদের পাশে মদের দোকানটি এখনও বহাল আছে? একের পর এক স্মারকলিপি ও দরখাস্ত দেওয়ার পরও প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই নীরবতা কিসের ইঙ্গিত দেয়?
জনস্বার্থ ও ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে অতীতে জেলা প্রশাসক বরাবর দোকানটি শহরের বাইরে স্থানান্তরের দাবিও জানানো হয়েছিল। সেই দাবির প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আবেদনকৃত তথ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।