সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদরাসার অভ্যন্তরীণ কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মুহতামিমের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকের মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন আলেম ও মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা আবদুর রহমান কফিলের সমর্থকদের দাবি, ওই বৈঠকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং অভিযোগগুলোকে অতিরঞ্জিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে মাদরাসার সাবেক মুহতামিম মাওলানা মাহমুদ হুসাইন ও পুরাতন শিক্ষক মাওলানা রহিমুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরীকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রচার করেছেন।
মুহতামিমের সমর্থকদের আরও দাবি, মাদরাসার কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ বা লিফলেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁরা দাবি করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মাওলানা আবদুর রহমান কফিলকে কিছুদিন মাদরাসার বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরে তিনি ওমরাহ পালনে যান। প্রায় এক মাস পর দেশে ফিরে মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন।
এরপর মাদরাসায় শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং চলমান বিরোধের অবসানের লক্ষ্যে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে একটি আবেদন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মজলিসে আমেলা তাঁর আবেদন গ্রহণ করলেও বিষয়টি কার্যকর করতে মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে জানানো হয়। এ নিয়ে পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল আগামী শনিবার।
এরই মধ্যে মাওলানা আবদুর রহমান কফিলকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যাচাই-বাছাই ছাড়া মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা ওই প্রতিবেদনের প্রতিবাদও জানান।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই গত ১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মজলিসে শূরার বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বৈঠকটি মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
বৈঠক মুলতবি হওয়ার পর মাদরাসা প্রাঙ্গণে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কয়েকজন আলেমকে ঘিরে বিক্ষোভ ও মিছিলের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে ২ অক্টোবর সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। রামনগর, বাণীপুর, হরিপুর, খাড়ারপার, সুজাতপুর ও শরীফপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন মাদরাসায় এসে জড়ো হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয়রা সংযত ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যাতায়াত নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় পরিস্থিতি শান্ত করতে আশপাশের গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরা উভয় পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মাদরাসা পরিচালনা, মুহতামিমের দায়িত্ব এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে,তা মজলিসে শূরার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।